উপজেলা কৃষি কর্মকতার উদ্যোগে শ্যামনগরে সূর্য্যমুখী চাষে বাম্পার ফল
মেহেদী:
নিরুপম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিলানীকেতন আমাদের এই বাংলাদেশ। সুজলা সুফলা, শস্য শ্যামলা আমাদের এই বাংলায় কৃষিই অন্যতম প্রধান অবলম্বন। কৃষিতেই আমাদের সবচেয়ে বেশি স্বনির্ভরতা। আর এই কৃষি ফলন যদি সুন্দরের পশরা নিয়ে আসে, তাহলে আর আনন্দের শেষ থাকেনা। অর্থকারী নান্দনিক সুন্দর ফসল সূর্যমুখী চাষে সফলতা পেয়ে দিনে দিনে আগ্রহ বাড়ছে বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের সর্ববৃহৎ উপজেলা শ্যামনগরের কৃষকদের মাঝে।
উপকূলীয় অঞ্চল, শ্যামনগরের মাঠে প্রান্তরে এ যেন হলুদের সমারোহ। মাঠের পর মাঠ যে দিকে তাকাই, সেদিকে শুধু হলুদ গালিচার মত সূর্যমুখী খেত। এক একটি ফুল যেন, হাসিমুখে সূর্যের দিকে শোভা ছড়াচ্ছে । চারিদিকে হলুদ ফুল আর সবুজ গাছে এক অপরূপ দৃশ্য। প্রতিনিয়ত আশেপাশের এলাকা থেকে সৌন্দর্য পিপাসু লোকজন সূর্যমুখী ক্ষেত দেখতে আসছেন। দিনের বেলায়, সূর্যের ঝলকানিতে হলুদ রঙে ঝলমল করছে চারিপাশ। সূর্যের দিকে মুখ করে আছে ফুল, সকালে পূর্ব দিকে সূর্যের পানে তাকিয়ে হাসলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে সূর্যের আবর্তনে দিক পরিবর্তিত হয়।
বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এ যেন, সবুজের মাঠে হলুদের সমারোহ।
সাতক্ষীরা জেলায়, শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নর সিরাজপুর গ্রামে, ক্লাইমেট স্মার্ট প্রযুক্তির আওতায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছে এই এলাকার কৃষকেরা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জনাব নাজমুল হুদা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জনাব মোঃ মহিউদ্দিনের সার্বিক সহযোগিতা এবং পরামর্শে কৃষকেরা এ ফসল চাষ করেছে বলে জানা যায়।
এ অঞ্চলের একাধিক কৃষক জানান, উপজেলা কৃষি অফিসার নাজমুল হুদা স্যার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জনাব গাজী মহিউদ্দিন স্যার প্রতিনিয়ত আমাদের ফসলের খোঁজখবর নেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আমাদের বিনামূল্যে বীজ সার সহ নানারকম উপকরণ দিয়ে সহায়তা করেছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব নাজমুল হুদা জানান, বর্তমানে বাজার মূল্য বেশি থাকায় কৃষকরা অধিক লাভবান হচ্ছেন সূর্যমুখী চাষ করে। তাছাড়া সূর্যমুখী তেল হার্টের জন্য অনেক উপকারী। এবছর চাষীদের সফলতা দেখে আগামীতে এই উপজেলায় আরো বেশি কৃষকেরা এই ফসল চাষে আগ্রহী হবে বলে আশা করা যায় এবং এ বিষয়ে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply